‘কাঁচা বাদাম’ গানে ভাইরাল, গানের কপিরাইট পেতে থানায় শিল্পী ভুবন বাদ্যকর
ভাজা বাদাম নয়, কাঁচা বাদাম বিক্রি করেন তিনি। ভাজা বাদামের অপকারিতা আর কাঁচা বাদামের উপকারিতা নিয়ে একটি গানও বেঁধেছেন।
বলছি বাদাম বিক্রেতা ভুবনের কথা। আর তার গানের সঙ্গে নেচে ভাইরাল হওয়া ওই তরুণীর নাম তৌহিদা অনয়।
তৌহিদা গিয়েছিলেন কলকাতায়, সেখান থেকে বীরভূম গিয়েছিলেন। হাওড়া থেকে দুবরাজপুর ব্লকে ট্রেন থেকে নেমে লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম কুড়ালজুড়ি গ্রামে পৌঁছেন। এরপর খুঁজে বের করেন সে বাদাম বিক্রেতা ভুবনকে। তারপর ভুবন বিখ্যাত গানটি গাইলেন আর নাচলেন তৌহিদা।
তৌহিদা অনয়ের নাচের ভিডিওটি এখন পর্যন্ত এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ দেখেছেন।
ভুবন বাদ্যকর ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় তার বাসায় ছুটে যান বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা। বাদামওয়ালা ভুবনের এ গানের সুরের টানে ছুটে আসেন অনেকে। শুধু গান শোনা নয়, গানের পাশাপাশি তার কাছে ক্রেতারা বাদামও কেনেন। শুধু টাকা দিয়ে নয়, পুরনো সিটি গোল্ডের চেন, চুড়ি, হাতের বালা, মোবাইল ভাঙা, হাঁসের পালক, মাথার চুল ইত্যাদির বিনিময়েও বাদাম কেনা যায় তার কাছ থেকে। তার দৈনিক আয় ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন কিছুটা বেড়েছে।
তবে ভুবন বাদ্যকরের জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তন আসেনি, সারা বিশ্বের বাঙালিরা ভুবনকে চিনলেও, গান শুনলেও তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এক জীর্ণ পলিথিনে ছাওয়া মাটির ঘরে থাকেন ভুবন। পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে। এক ছেলের বউ ও নিজের স্বামী পরিত্যক্ত বোন।
বাংলাদেশ সময়: ২১২৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৩, ২০২১
জেডএ
শুক্রবার বীরভূমের দুবরাজপুর থানায় গিয়ে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
ভুবন বাদ্যকরের অভিযোগ, ইউটিউবে তার গানের স্বত্ব ‘সংরক্ষিত’ হিসাবে দেখাচ্ছে। অথচ তার নিজস্ব কোনো অ্যাকাউন্ট নেই ইউটিউবে।
সপ্তাহ খানেক ধরেই গানটি ফেইসবুক, টিকটক, ইউটিউবে ভাইরাল হওয়ায় অনেকে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করলেও গানের স্রষ্টা ভুবন কোনো অর্থ পাননি। গানের শিল্পী হিসেবে তার নামও অনেকে উল্লেখ করছেন না।
নিজের নামে গানের স্বত্বের পাশাপাশি গান থেকে উপার্জিত প্রাপ্য অর্থ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এ শিল্পী।
ভুবন বলেন, ‘‘গানটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রচুর মানুষ বাড়িতে ভিড় করছেন। সকলেই আমার গান ভিডিয়ো করতে চান। তার পর সেই গান নেটমাধ্যমে ছেড়ে অনেক টাকা আয়ও করছেন। অথচ আমার হাত খালি।’’
বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের কুড়ালজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পেশায় বাদাম বিক্রেতা। বাদাম বিক্রি করতেই গানটি বেঁধেছিলেন তিনি।
গান জনপ্রিয় হওয়ায় খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভুবন। রাস্তায় বেরোলেই অনেকেই ছুটে এসে ছবি তোলার আবদার করছেন।
নিরাপত্তার জন্য থানায় যাওয়ার সময় মাথায় হেলমেট পরে বাড়ি থেকে বেরোন তিনি। যাতে কেউ চিনতে না পারেন
Comments
Post a Comment